মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থান হচ্ছে মসজিদ। বিশ্বজুড়েই অসাধারণ স্থাপত্যের এমন অনেক সুন্দর মসজিদ দেখতে পাওয়া যায়।
ইসলামী শাসন ব্যবস্থা যত দূরেই গেছে, সেখানেই স্থাপন করা হয়েছে মসজিদ। সে হিসেবে ইতিহাসে মুসলমানদের শক্তির নমুনাও প্রমাণ করে মসজিদ। প্রায় ১৩০০ বছর ইউরোপ ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঞ্চল ছিল ইসলামের ছায়ায়। ইসলামী শাসন ক্ষমতা হারালেও মসজিদ হয়ে আছে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী।
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অনিন্দ্যসুন্দর সেসব মসজিদ পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো—
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহকে প্রার্থনার জন্য প্রথম ঘরটি হচ্ছে কাবা শরিফ। মসজিদ আল হারাম সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদ এটি। ৪ লাখ ৮শ’ স্কয়ার ফিট সম্পন্ন মসজিদটি। হজের সময় এক সঙ্গে ৪০ লাখ মানুষ থাকতে পারে।
মসজিদ আল নববীকে প্রায় ডাকা হয় রাসূলের মসজিদ নামে। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মুসলমানদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। এটা মুসলমানদের জন্য দ্বিতীয় পবিত্র স্থান। সবুজ ডোমটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। কারণ এখানেই শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে সমাহিত করা হয়েছে। ১৮৩৭ সালে প্রথম এই গুম্বজটিতে সবুজ রং ব্যবহার করা হয়।
আল আকসার আরেকটি নাম বায়তুল মোকাদ্দেস। মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান এটি। মুসলমানদের প্রথম কিবলা ছিল এই মসজিদটি। আল্লাহ পরবর্তীতে কাবাকে কিবলা নির্ধারণ করে দেন।
মরক্কোতে অবস্থিত হাসান দ্বিতীয় মসজিদটি পৃথিবীর অন্যতম বড় (৭ম) একটি মসজিদ। এই মসজিদের মিনারটি ৬৮৯ ফুট লম্বা। ১৯৯৩ সালে মসজিদটি তৈরি শেষ হয়। মিনারটি প্রায় ৬০ তলা উঁচু এবং মাথায় লেজার লাগানো আছে।
ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদটি ব্রুনাইয়ের রাজকীয় মসজিদ। মসজিদটিকে ধরা হয় এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম সুন্দর মসজিদ হিসেবে। ১৯৫৮ সালে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় নানাভাবে সাজানো হয়েছে মসজিদটিকে।
মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশে অবস্থিত জহির মসজিদটি। মালয়েশিয়ার অন্যতম পুরাতন মসজিদ এটি। ১৯১২ সালে মসজিদটি সুলতান তাজউদ্দিন মুকারম শাহের ছেলে টুংকু মাহমুদ তৈরি করেছিলেন। মসজিদের ৫টি গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে ইসলামের ৫টি ভিত্তির ধারণায়।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় মসজিদ এটি। পৃথিবীর ৪র্থ বৃহৎ মসজিদও এটি। ১৯৮৬-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এই মসজিদটি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল।
তাজ উল মসজিদ অর্থ হচ্ছে মসজিদের মুকুট। এই মসজিদটি ভারতের ভুপালে অবস্থিত। মসজিদটি ইসলাম শিক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় এখনো। এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সুন্দর ও বড় মসজিদ এটি।
লাহোরের রাজকীয় মসজিদ এটি। ৬ষ্ঠ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৭১ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৬৭৩ সালে। পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহৎ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৫ম বৃহৎ মসজিদ এটি। মুঘল আমলের নানা নিদর্শন এই মসজিদ নির্মাণকাজের মধ্যে পাওয়া যায়।
সুলতান মসজিদকে বিবেচনা করা হয় সিঙ্গাপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ হিসেবে। মসজিদটি নির্মাণ হওয়া থেকে এখন পর্যন্ত অপরিবর্তিত অবস্থায়ই রয়েছে। অর্থাৎ যেমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল ডিজাইনে কোনো ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৮২৪ সালে এবং শেষ হয় ১৮২৬ সালে।
No comments:
Post a Comment